বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০১১

বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ একে অন্যের পরিপূরক

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বিশ্বের মানচিত্রে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। পূথিবীর সৌভাগ্যবান জাতিগুলো যারা নিজেদের স্বাধীন সার্বভৌম দেশে বাস করে এবং পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ নয় তাদের মতো আমরাও একটি গর্বিত জাতি হিসেবে একটি স্বাধীন জাতিসত্ত্বার পরিচয় পেয়েছিলাম। দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর এই দিনটি ছিল বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে আনন্দের দিন। সমগ্র বাংলাভাষী মানুষ যেন অধীর আগ্রহে এই দিনটির অপেক্ষায় অধীর ছিল।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বে নেতৃত্বদানের এই একক কৃতিত্ব জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী ছিলেন। এজন্য অপশক্তি, স্বাধীনতাবিরোধীরা বলে থাকে মুজিব মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেননি এবং স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। বাংলাদেশের জনগণের  বেশ বড় একটা অংশ স্বাধীনতাবিরোধীদের আরও অনেক মিথ্যা অপপ্রচারের সাথে এটিও বিশ্বাস করেছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হল মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং সমগ্র মুক্তিযুদ্ধ চলেছিল তাঁরই নামে।


বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ নামটির সাথে আষ্ট্রেপিষ্ঠ্রে জডিয়ে আছেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের আগে থেকে তিনি রাজনীতি করেছেন এবং পুরো পাকিস্তান আমলে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের উপর বিভিন্ন শোষণ, নির্যাতন, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন এসবের বিরুদ্ধে রাজনীতি করেছেন। তাঁর জীবনের অনেকটা সময় তিনি কারাগারে অতিবাহিত করেছেন। জনগণের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তাঁর সংগ্রাম সব সময় অব্যাহত ছিল। আইয়ুবের মত লৌহমানবও তাঁর কাছে পরাজয় মেনে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল।


১৯৭০ সালের সাধারন নির্বাচনের সময় বঙ্গবন্ধু ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের সাড়ে সাত কোটি মানুষের ইচ্ছা এবং আকাংখার প্রতীক। যে কারনে নির্বাচনে তিনি এবং তাঁর দল লাভ করেছিল নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। কিন্তু পাকিস্তানের নেতাগণ তাঁকে ক্ষমতায় যেতে দিতে চায়নি। কারণ তারা জানত শেখ মুজিবকে ক্ষমতা দিলে তারা আর পূর্ব বাংলাকে শোষণ করতে পারবে না। তাই তারা মুজিবকে ২৫শে মার্চ রাতের বেলা গ্রেপ্তার করল এবং পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে বন্দী করে রাখল। বাংলার মানুষের স্বশাসনের দাবির বিনিময়ে তারা বুলেট ছুঁড়ে জবাব দিল। পশ্চিম পাকিস্তানিরা এবং তাদের এদেশীয় দোসররা ভেবেছিল বাঙালি জাতিকে এভাবে দমিয়ে রাখা যাবে। তাদের সেই ধারণা ভাঙতে বেশি সময় লাগেনি। বঙ্গবন্ধু ২৫শে মার্চ রাতেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন এবং তাজউদ্দিন আহমদ সহ অন্যদের নির্দেশ দিলেন কিভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর সেই আদেশ দৃঢ়তার সাথে পালন করল এবং মাত্র নয় মাসে প্রিয় মাতৃভূমি শত্রুমুক্ত হল।

বুধবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১০

হযরত ঈসা (আঃ) এর বিবাহ ও ইন্তেকাল

হযরত ঈসা (আঃ) আসমান হতে অবতরণ করার পর সর্বমোট ৪৫ বছর দুনিয়ায় অবস্থান করবেন। তিনি এ সময় বিবাহ করে যথারীতি সংসার জীবন যাপন করবেন এবং তাঁর কয়েকটি পুত্র কন্যাও জন্মগ্রহণ করবে। কথিত আছে, হযরত ঈসা (আ) দ্বিতীয়বার দুনিয়ায় অবতরণপূর্বক প্রথম দিকে দাজ্জালের উপদ্রব নিবারণ করে শান্তি স্থাপন করবেন। এরপর ইমাম মাহদী (আঃ) এর হাতে খেলাফতের সকল দায়িত্ব অর্পণ করে তিনি শুধু ধর্ম প্রচারে আত্মনিয়োগ করবেন। অতঃপর হযরত ইমাম মাহদীর ইন্তেকালের পর আবার খেলাফতের দায়িত্ব স্বহস্তে গ্রহণ করবেন। ইয়াজুজ মাজুজের অত্যাচার হতে নিস্কৃতি লাভ করে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরই তিনি বিবাহ করে সংসারী হবেন। এভাবে ৪৫ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি ইন্তেকাল করবেন। এ সম্পর্কে হুজুর (সাঃ) এর ভবিষ্যত বাণী নিম্নরূপঃ- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বলেন,  রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেছেন, হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ) যমীনে অবতরণ করবেন। এরপর তিনি বিবাহ করবেন, তাঁর সন্তানাদিও জন্মলাভ করব এবং তিনি ৪৫ বছর দুনিয়ায় অবস্থান করবেন। তাকে আমার সঙ্গে আমার কবরের সাথে দাফন করা হবে। কেয়ামতের দিন আমি ও ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ) একই কবরস্থান হতে আবু বকর ও ওমরের মধ্যখান হতে উত্থিত হব। - (মেশকাত শরীফ)

সোমবার, ৩০ আগস্ট, ২০১০

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে শিক্ষা নেবার অনেক কিছু আছে

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে অনেক দিন আগে, কিন্তু তা আজো বহু দেশের রাজনীতিজ্ঞ, রাষ্ট্রনেতা, সামরিক কর্মী, ইতিহাসবিদ, অর্থনীতিবিদ ও অন্যান্য বিজ্ঞানীদের এবং বিশ্ব জনসমাজের ব্যাপক স্তরের মানুষের গভীর মনোযোগ আকর্ষণ করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সম্পর্কে প্রকাশিত হয়েছে অনেক বড় বড় বই, স্সৃতিকথা, দলিলাদির সংকলন, লেখা হয়েছে অসংখ্য প্রবন্ধ। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে অনেকগুলো পুঁজিতান্ত্রিক দেশে যুদ্ধের কারণ, চরিত্র, ফলাফল ও শিক্ষাকে খুবই অমার্জিতভাবে বিকৃত করা হয়। অথচ আসলে এই জিনিসগুলোরই গভীর ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ প্রয়োজন, এই জিনিসগুলোই সর্বদা মনে রাখা উচিত। তাহলে বিগত যুদ্ধগুলোর প্রধান শিক্ষাগুলো কী রূপ?

 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রথম ও প্রধান শিক্ষাটি হচ্ছে- ফ্যাসিস্ট জার্মানী ও সমরবাদী জাপানের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয়ে নিয়মানুবর্তিতা। বুর্জোয়া ইতিহাসবিদ ও সামরিক কর্মীরা (বিশেষ করে মার খাওয়া ফ্যাসিস্ট জেনারেলরা) ফ্যাসিস্ট জোটের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয়কে আপতিক ঘটনা হিসেবে, সোভিয়েত দেশের বিশাল আয়তন, রুশ শীত, পথাভাব, হিটলারের ভুল ইত্যাদির ফল হিসেবে দেখতে চেষ্টা করে। এ সমস্ত কিছুই সম্পূর্ন মিথ্যা। ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে সোভিয়েত জনগণের ঐতিহাসিক বিজয়- সর্বাগ্রে এ হচ্ছে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রবল জীবনী শক্তির শ্রেষ্ঠ প্রমাণ- যুদ্ধে সোভিয়েত জনগণ মহাবিজয় লাভ করে, এবং তার কারণটি হচ্ছে এই যে, সমাজতন্ত্র সমগ্র সোভিয়েত সমাজের অবিনাশী ঐক্য সুনিশ্চিত করেছে, তার অর্থনীতিকে অভূতপূর্ব শক্তি জুগিয়েছে, সময় বিজ্ঞানের ব্যাপক বিকাশ ঘটিয়েছে, চমতকার যোদ্ধা ও সেনাপতিদের গড়েছে। যুদ্ধ সুস্পষ্টরূপে দেখিয়ে দিয়েছে যে, পৃথিবীতে এমন কোন শক্তি নেই যা সমাজতন্ত্র ধ্বংস করতে পারে, নিজের সমাজতান্ত্রিক মাতৃভূমির প্রতি জনগণকে নতজানু করতে পারে।

 সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার বিপুল শ্রেষ্ঠতা, পরিকল্পনাভিত্তিক সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার শ্রেষ্ঠতা সোভিয়েত সরকারকে দেশের জনগণের আত্মোতসর্গী শ্রমের উপর নির্ভর করে অধিকতম ফলপ্রসুভাবে নিজের সমস্ত মজুদ ক্ষমতা ও সুযোগ- সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এবং অস্ত্রশস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সাজসরজ্ঞাম উতপাদনে ফ্যাসিস্ট জার্মানীকে ছাড়িয়ে যেতে, সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিজয় লাভ করতে সাহায্য করেছে।